সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

ফেনীতে দুই সন্তান সহ মায়ের আত্মহত্যা : থামছেনা স্বজনদের আহাজারি

ফেনীতে দুই সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা ॥ থামছেনা স্বজনদের আহাজারী

নিজস্ব প্রতিনিধি>>
ফেনীতে পারিবারিক কলহের জেরধরে দুই সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় কিছুতেই থামছেনা স্বজনদের আহাজারী। সোমবার সন্ধ্যায় আত্মহত্যার খবর পেয়ে শহরের রামপুরের বাসায় ছুটে আসেন নিহতের মা সবুরা খাতুন কাজল, ভাই মাসুমসহ পরিবারের লোকজন। স্বজনদের আহাজারীতে আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে উঠছে। চারদিকে শুধু কান্নার রোল। কিছুতেই মেতে নিয়ে পারছেন না মেয়ে ও নাতী-নাতনির মৃত্যু।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশিরা ইতালি প্রবাসী তারেক আহাম্মদের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার মুক্তাকে (২৮) ডাকদেন। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা মুক্তার ভাই মাসুমকে খবর দিলে সে বাসায় এসে দরজা ভেঙ্গে বোনসহ ভাগনি তাসনিম আহমেদ মাহি (৮) ও ভাগিনা মাহিন আহমেদের (৩) লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ মরদেয় উদ্ধার করে আধুনিক ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। তারা দীর্ঘ দুই বছর ধরে পশ্চিম রামপুর এলাকার উজির আলীর নতুন বাড়ীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
গৃহবধু মুক্তার ভাই মাছুম জানান, বিগত কয়েকদিন ধরে ইতালীতে অবস্থানরত স্বামী তারেক মাহমুদের সাথে বোনের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিলো। ধারনা করা হচ্ছে স্বামীর উপর রাগ করেই এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
ফেনী পৌর সভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুর রহমান সাইফু জানান, এ ধরণের একটি খবর তিনি শুনেছেন। তবে দীর্ঘদিন থেকে পরিবারটি এখানে বসবাস করলেও তাদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক মো. রাশেদ খান চৌধূরী জানান, প্রাথমিক সুরত হালে ধারণা করা হচ্ছে গৃহবধু মুক্তা প্রথমে তার সন্তান মাহিন ও মাহিকে মোবাইল চার্জারের ক্যাবল ও গামছা পেছিয়ে শ্ববাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মুক্তা বিষপান করে আত্মহত্যা করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন