স্পোর্টস রিপোর্টার, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : ক্রিস গেইলের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলে ভারতকে একাই উড়িয়ে দিয়েছেন ইভান লুইস। দু দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে ৪৮০ রানের সেই টি টোয়েন্টি ম্যাচেও বিস্ফোরক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন লুইস।
রোববার সাবিনা পার্কে ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৯ উইকেটে, নয় বল হাতে রেখে। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান তুলতে পারা দলটি চতুর্থ ওভার থেকেই ব্যাটিং তান্ডব শুরু করে। ক্যারিবিয়ানে এটাই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। আগের সেরা ছিল ২০১৪ সালে ব্রিজটাউনে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে।
দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়ার পথে ১২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন লুইস। তার ক্যারিয়ার সেরা তো বটেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়েও এটা টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রিস গেইলের ১১৭ ছিল আগের সেরা।
গেইল ও নিউ জিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে দুটি শতক পেলেন লুইস। তার আগের শতকটিও ছিল ভারতের বিপক্ষে। সেবার করেছিলেন ১০০ রান।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে জ্বলে উঠতে পারেননি গেইল। একটি করে ছক্কা-চারে ফিরেন ১৮ রান করে। লুইসের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ৮.২ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভেঙে গেইলের ফেরার সময় স্কোর বোর্ডে ছিল ৮২ রান।
মারলন স্যামুয়েলস সঙ্গ দিয়ে গেছেন ভারতীয় বোলারদের চোখের পানি-নাকের পানি এক করে দেওয়া লুইসকে। তার ছক্কা বৃষ্টিতে উড়ে যায় ভারতের জয়ের আশা। ৬২ বলে ১২৫ রানের ইনিংসে ১২টি ছক্কার সঙ্গে ৬টি চার- বাউন্ডারি থেকেই আসে ৯৬ রান!
অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে ১১২ রানের জুটিতে স্যামুয়েলসের অবদান ৩৬ রান।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে চার ইনিংস মিলিয়ে লুইস করেন মোটে ৬৭ রান। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসেই করে ফেললেন তার প্রায় দ্গিুণ। অবশ্য ৪৯ ও ৫৫ রানে দুবার ক্যাচ দিয়েও তিনি বেঁচে না গেলে খেলার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র উইকেটটি নেন অভিষিক্ত স্পিনার কুলদীপ যাদব।
স্যাবিনা পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটাও ছিল দারুণ। ২৭ বলে কোহলির ৩৯ আর ১২ বলে শিখর ধাওয়ানের ২৩ রানে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল অতিথিরা।
৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে প্রথম অর্ধশতকের পথে ছিলেন দিনেশ কার্তিক। ৪৮ রানে তাকে বোল্ড করে থামান স্যামুয়েলস। এরপর রিশাব পান্ত, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কেদার যাদবের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।
শেষের দিকে রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যাটে ১৯০ পর্যন্ত যায় ভারত। কিন্তু লুইস ঝড়ে তা কোনো বাধাই হতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৯০/৬ (কোহলি ৩৯, ধাওয়ান ২৩, পান্ত ৩৮, কার্তিক ৪৮, ধোনি ২, কেদার ৪, জাদেজা ১৩*, অশ্বিন ১১*; বদ্রি ০/৩১, টেইলর ২/৩১, উইলিয়ামস ২/৪২, ব্র্যাথওয়েট ০/২৬, নারাইন ০/২২, স্যামুয়েল ১/৩২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৩ ওভারে ১৯৪/১ (গেইল ১৮, লুইস ১২৫*, স্যামুয়েলস ৩৬*; ভুবনেশ্বর ০/২৭, অশ্বিন ০/৩৯, শামি ০/৪৬, কুলদীপ ১/৩৪, জাদেজা ০/৪১)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ১-০ ব্যবধানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এভিন লুইস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন