শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

দেওবন্দ মাদ্রাসায় তাবলীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তাবলিগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায়। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারী) একটি নোটিশের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

নোটিশ বোর্ডে টানানো নিষেধাজ্ঞায় বলা হয় 'প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজ করা আমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। তবে দারুল উলুমকে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্ট ফেতনা থেকে বাঁচানোর জন্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাদরাসার মুহতামিম আবুল কাসেম নুমানি স্বাক্ষরিত নোটিশ আরো বলা হয়, 'প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! তাবলিগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিয়ে কোনো ধরণের মাথা ঘামাবে না দারুল উলুমের চৌহদ্দির ভেতর ও বাইরে। তাবলিগের দুই পক্ষের কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না দারুল উলুমের কোনো ব্যক্তি।' 'যদি দারুল উলুমের চৌহদ্দির ভেতর তাবলিগের চলমান সঙ্কটের ব্যাপারে মাথা ঘামায় কোনো ছাত্র কিংবা বহিরাগত কেউ, তাহলে অন্য ছাত্ররা এতে নিজেদের না জড়িয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করবে। মাদরাসার আইন অমান্য করে যদি কোনো ছাত্র নিষিদ্ধারোপিত কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে ।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দ্বন্দ্ব চরম আকর ধারণ করেছে তাবলীগ জামাতের ভেতরে দুটি গ্রুপের। সংঘর্ষেরও ঘটনা ঘটে এই দ্বন্দের জেরে। শুধু তাই নয়, টঙ্গীতে এবার বিশ্ব ইজতেমা হতে পারেনি নির্ধারিত সময়ে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে।

তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাদ তাবলীগ জামাতে সংস্কারের কথা বলছেন তিনি বেশ কিছু কাল ধরেই। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রচারণা বা ধর্মীয় শিক্ষা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়। যার মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।

সাদ আরো বলেন, মাদ্রাসার ভেতরে নামাজ না পড়ে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের মসজিদে এসে নামাজ পড়া উচিত। কিন্তু তার বিরোধীরা বলছেন, সাদ যা বলছেন- তা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী। তাদের বক্তব্য, সাদের কথাবার্তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশ্বাস ও আকিদার বাইরে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন