করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুনে দুই বাঙ্গালী বসতবাড়ী পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা একটি বাড়ী ভাংচুর ও স্থানিয় বাঙ্গালীদের মারধর করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে যায় বরে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানিয়রা জানায়, সোমবার রাত ৮টার সময় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের ৭নং ঝর্ণাছড়া এলাকায় ১২ থেকে ১৫ জনের সসস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালী বাড়ীতে হানা দিয়ে দ্বিন আলী মোল্লা ও জেসমিন আক্তারের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মজিবুর রহমানের ঘর ভাংচুর করে। এর আগে ঘর থেকে ধরে এনে শরিফুল ডালি সহ ৪-৫ জনকে বৃদ্ধা বাঙ্গালীকে বেদম মারধর করে আহত করে।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান বলেন, এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ দ্বিন আলী মোল্লার ছেলে মারুপ বিল্লাহ বাদী হয়ে উল্লেখযোগ্য ৫ জনসহ আরো অজ্ঞাত ১২-১৫ জনকে আসামী করে রামগড় থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
রামগড় এএসপি সার্কেল কাজী হুমায়ুন রশিদ বলেন, খবর পেয়ে বিজিবিসহ আমি নিজস্ব পোর্স নিয়ে মধ্যরাতে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় পরিদর্শনে যাই। এখানে বেশ কয়েকটি বাঙ্গালী দরিদ্র পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বসবাস করতেছিলো। সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালী পরিবারগুলিকে চাঁদা আদায়, শারিরীক নির্যাতনসহ নানা ভাবে ক্ষয়ক্ষতি করছে যাহাতে তারা অন্যত্র চলে যায়। যার কারণে আগুল দিয়ে তাদের বাড়ীঘর জালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭
উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুনে রামগড়ে দুই বাঙ্গালী বসতী পুড়ে ছাঁই
ঈদকে “ইদ” বানিয়ে “ইদুর” কালচার তৈরির অপচেষ্টা!
বাংলা একাডেমি বাঙালির বহুদিনের অভ্যস্ত বানান ‘ঈদ’ পরিবর্তন করে ‘ইদ’ করার প্রস্তাব করেছে। এতদিনের বানান ‘ঈদ’-এ হ্রস্ব-ই ব্যবহারের প্রস্তাবে সচেতন শিক্ষিত সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা বানান সহজতর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ঈদ’ বানানের এরূপ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আকস্মিক এ পরিবর্তনে ‘ঈদ’ বানানে অভ্যস্ত বাঙালিরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।
সাহিত্য সমালোচক, কবি ও ভাষাতাত্ত্বিক সাখাওয়াত টিপু তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘’ইদ’ নয়, লিখুন ‘ঈদ’। ‘ইদ’ শব্দ ভুল! এক ভাষা থেকে অন্য ভাষার শব্দ তার ভাব ও ধ্বনিগতভাবে শব্দ আত্তীকরণ করে। গায়ের জোরে শব্দ বিকৃতকরণ ভাষার ফ্যাসিবাদ। এটা বল প্রয়োগের সংস্কৃতি!’
সাখাওয়াত টিপু আরেকটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ঈদ’ বানান এভাবে ‘ইদ’ বললে ‘ইঁদুর ইঁদুর’ কালচার মনে হয়। আরবি ‘ঈদ’ মানে ‘আনন্দ’। কিন্তু ‘ইদ’ মানে কি আনন্দ’?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহেল রাজীব লিখেছেন, ‘একসময় বিদেশি শব্দ Dacca থেকে Dhaka করা হয়েছে, তাতে ঢাকা ঢাকা পড়েনি। বিদেশি শব্দের বাংলা ভাবানুবাদে, অনুবাদে বা আক্ষরিক অনুবাদে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। এখন তিন দশক ধরে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ নির্ধারিত তারিখ, কিন্তু পহেলা বৈশাখ নির্ণিত হতো পঞ্জিকা অনুসারে। পার্শ্ববর্তী বাংলা অঞ্চলে (ভারতের একটি প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ) পহেলা বৈশাখ ১৫ এপ্রিল। এই ১৪ এপ্রিল নির্ধারণ করা নিয়ে কোনো প্রভাব বৈশাখে আসেনি। সুতরাং বিদেশি শব্দ ঈদ, ইদ হলে ঈদের/ইদের আচারে প্রভাব পড়বে না। পরার/পড়ার কথা না। পড়া ও পরা নিয়ে তর্ক হতে পারে!’
এক প্রশ্নের জবাবে রাহেল রাজীব বলেন, ‘দুটোই শুদ্ধ। তবে ‘ঈদ’ ব্যবহার বাঞ্ছনীয়, ‘ইদ’ ব্যবহারও শুদ্ধ। তবে প্রেফারেন্স পাবে ঈদ। বিদেশি শব্দের বানানের ক্ষেত্রে আমরা তেমন নিয়ম মানি না। কারণ সেই ভাষাজ্ঞান আমাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাসা ভাসা পর্যায়ের। ইংরেজি, আরবি, ফারসি, ফরাসি, স্প্যানিশ কিংবা অন্যান্য বানানের ক্ষেত্রে সহজাত প্রচলিত বানানকেই গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আইপিএ তে বিদেশি শব্দের বাংলা শব্দ করলে অনেক সময় উচ্চারণ অযোগ্য শব্দবন্ধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই বিদেশি ভাষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত বানানকে অনুসরণ করা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারের জন্য যৌক্তিক’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘ঈদ’ বানানে হ্রস্ব-ই ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছে অভিধানে। বাংলা একাডেমি একটি প্রস্তাব করেছে। এটি মান্য করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। বানানের ব্যাপারটি পরিবর্তনশীল। এককালে বানান একরকম থাকে, পরবর্তীকালে, উত্তরকালে সেই বানান পরিবর্তিত হয়ে যায়।
১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ‘কার্তিক’ বানানে আমরা দুটো ত ব্যবহার করতাম, পূর্ব বানানে রেফ-এর পর দুটো ব ব্যবহার করতাম। কিন্তু ১৯৩৬-এর পর একটা ব ব্যবহার করতাম। এ রকম বহু বানান পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন আরবি, জাপানি, ফরাসি ইত্যাদি বানানে আগে দীর্ঘ-ঈ ব্যবহার করা হতো, এখন আমরা হ্রস্ব-ই ব্যবহার করি। বাংলা একাডেমি যেটি বলতে চায় সেটি হলো, বিদেশি শব্দের অন্তিমে সব সময় হ্রস্ব-ই ব্যবহার করতে হবে। কলকাতার আনন্দবাজার গোষ্ঠী যেমন চীন শব্দে হ্রস্ব-ই ব্যবহার করে চিন লিখে, গ্রীক তারা লেখে গ্রিক হিসেবে’।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে জিজ্ঞেস করা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দীর্ঘ-ঈ ব্যবহার করতেন।
তাহলে কেন ঈদ বানান হ্রস্ব-ই দিয়ে লেখার প্রস্তাব আসল? এর জবাবে তিনি বলেন, ঈদ শব্দটি বাংলার এবং বাঙালির উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোনো কোনো বানান থাকে যার পরিবর্তন হলে চোখে লাগে। কখনো কখনো আবেগে লাগে, কখনো কখনো বিশ্বাসে লাগে। এর ফলে সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ফেসবুকে অনেকেই এর প্রতিবাদ করে লিখছে। আমার মনে হয় কিছু কিছু শব্দ ব্যতিক্রম বানান নিয়ে থাকতে পারে। যেমন ঈদ এর বেলায় এমনটি হতে পারে। ঈদ বানান যেহেতু আমাদের অপটিকস সহ্য করে নিয়েছে, তাই আমার মনে হয় ঈদ বানান অপরিবর্তিত রাখলে অধিকাংশ বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে’।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়নের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, সব শব্দের বাংলায়ন কতখানি জরুরি? আরবি শব্দ ‘ঈদ’ এর অর্থ আনন্দ। কিন্তু দীর্ঘ-ঈ বাদ দিয়ে ঈদ-এর আগে ‘ইদ’ করা কি শুধুই বাংলা বানান সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? নাকি অতি উর্বর কোনো মস্তিষ্কের ফল? আমার নাম তো শেখ আদনান ফাহাদ, পুরো আরবি নাম। তাই বলে এর বাংলা করতে হবে? খুব সূক্ষ্ম মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনা থেকে এবার ঈদকে ‘ইদ’ করা হয়েছে। একজন বাঙালি মুসলমান হিসেবে আমি এই বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির প্রতিবাদ করছি। এর কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না
মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭
এই আমির আর সেই আমির!!!!!
পাঁচ বছর নির্বাসনের পর মাঠে ফিরে এ ভাবে পারফর্ম করাটা সহজ কাজ নয়। আমির সেই ফিটনেসটা বজায় রাখতে পেরেছে বলেই আজ সাফল্য পাচ্ছে।’
একসময় যেই প্রতিবেশীদের ‘গঞ্জনায়’ বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরকে, তারাই এখন তাকে বীর মানছেন। এ যেন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন।
২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মোহাম্মদ আমির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয় তাকে। সাত বছর পর সেই লন্ডনেই কেনিংটন ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতীয় টপ অর্ডার চূর্ণ করে পাকিস্তানের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
যে দিনগুলোর কথা আজও ভুলতে পারেন না এই পাক পেসারের দুই ভাই নাভিদ এবং ইজাজ। তারাই এখন বলছেন, ‘রবিবার ওভালে নতুন বল হাতে আমিরের স্পেলটাই সমস্ত লজ্জা ধুয়ে পরিবারকে সম্ভ্রমের জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’
লাহোর থেকে মুঠোফোনে পিটিআইকে নাভিদ বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে চাঙ্গা বুঙ্গিয়াল গ্রামে তখন থাকতাম আমরা। আমির স্পট ফিক্সিংয়ে যখন দোষী সাব্যস্ত হয়, তখন গ্রামে লোকের সঙ্গে মিশতে বা কথা বলতেই লজ্জা করত। তার পর লাহৌরে চলে আসি আমরা। কিন্তু আমাদের অনেক আত্মীয়ই রয়ে গিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডিতে। এখন গ্রামে গেলে ভাইয়ের জন্যই ফের চোখ তুলে সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর আমির চেয়েছিল এমন কিছু পারফরম্যান্স করতে যা ওকে আলাদা ভাবে চিনিয়ে দেবে। রবিবার ওভালে সেটা ও করে দেখিয়ে দিল।’
আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে উঠে আসা আমিরের। পরিবারে ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। এক বছর আগে শাস্তি কাটিয়ে আমির যখন টিমে ফেরেন, তখন পাকিস্তানেই অনেকে বলেছে জাতীয় দলে আমিরকে কোচ মিকি আর্থার বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন। কিন্তু গত বছর এশিয়া টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির প্রশংসার পরেই সব বন্ধ হয়ে যায়।
রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে নতুন বল হাতে ভারতের তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং শিখর ধাওয়ানকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে আমির এখন পাকিস্তানে জাতীয় বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন।
আমিরের প্রথম কোচ বাজওয়া বলছেন, ‘পাঁচ বছর নির্বাসনের পর মাঠে ফিরে এ ভাবে পারফর্ম করাটা সহজ কাজ নয়। আমির সেই ফিটনেসটা বজায় রাখতে পেরেছে বলেই আজ সাফল্য পাচ্ছে।’
গত বছরই ব্রিটিশ নাগরিক নারিস খানকে বিয়ে করেছেন আমির। মাঠের বাইরে নারিস আর মাঠের ভিতর শোয়েব মালিকের অভিভাবকত্বই বদলে দিয়েছে আমিরকে। যে প্রসঙ্গে পাকিস্তান বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘পাকিস্তান বোর্ডই শোয়েবকে মেন্টর করে দেয় আমিরের। যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।’
টাইমস অব ইন্ডিয়া
সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭
একজন নবী হোসেনের অনন্য কীর্তিতে বেঁচে গেল কয়েকশ মানুষ
সরফরাজ, কোহলী কীংবা ফাখার জামান কে তো সবাই চিনেন। একজন নবী হোসেনের নাম ক'জন জানতে পেরেছেন? অথচ সরফরাজ বা কোহলীর চাইতে এই নামটিই বেশি পরিচিত হবার কথা ছিল।
একজন নবী হোসেন, রাঙ্গামাটি নতুন পাড়া পৌরপসভার ৫৫ বছর বয়সী এক বাস ড্রাইভার। রাঙ্গামটীতে অত্যধিক বৃষ্টি দিন ভোরে নবী হোসেন নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার পথেই প্রথমে পাহাড় ধ্বসের টের পান। নবী হোসেন পাহার ধ্বস শুরু হচ্ছে দেখে মসজিদের মাইকে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা মাইকিং করেন, তারপর নেমে পরেন নতুনপাড়া কমিউনিটির ১৮০ টি পরিবারকে উদ্ধারে। অন্য কয়েক সহযোগীকে নিয়ে লাগাতার মাইকিং ও উদ্ধার কাজ করার পর নবী হোসেন নিজের ঘরে ফিরে আসেন। ঘরে এসেই পরিবারের সবাইকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যেতে বলে ঘরের লাঘোয়া পাহাড় থেকে ধাবমান পানির স্রোত সরাতে ঘরের পাশে নালা করতে কোদাল হাতে নেমে পরেন। এরই মাঝে নবি হোসেন ও তার ঘরের উপর পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধ্বসে পরে। পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর পাশাপাশি নবী হোসেনও গুরুতর আহত হন। গতকাল চট্টগ্রাম মেডিলেকে চিকিতসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নবী হোসেন। পুরো একতি পাড়ার শতশত মানুষকে দূর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজেই মারা গেলেন নবী হোসেন। নবী হোসেন কে নিয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠাণের বিজ্ঞাপণের ধান্দা হবেনা। সরফরাজ বা কোহলীদের মত ক্রিকেটে জুয়াও ধরা যাবেনা, তাই গ্রাম বাংলার এই সকল ক্ষুদ্র কিন্তু নিঃস্বার্থ নবী হোসেনদের কেউ চিনবেনা। নবী হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি...আল্লাহ নিশ্চয় নিঃস্বার্থ ও পরোপকারীদের জান্নাতে স্থান দেন।
পুরুষ নির্যাতন নিয়ে এক মানবাধিকার কর্মীর আবেদন
প্রসাষনিক দৃষ্ট আকর্ষন...
গত ১৭/০৩/২০১৭ ইং তারিখ আকলিমা আক্তার সীমা, পিতাঃ আবদুল কুদ্দুস, মাতা তাহেরা বেগম, নাজিম উদ্দিন ভুঞা বাড়ি, উত্তর মঠ ভাড়িয়া, ৪নং ধর্মপুর ইউনিয়ন উপজেলা সদর জেলা ফেনীর সহিত, আবুল হোসেন পিতা কামাল মিঞা, মাতা খুরশীদা বেগম, মোল্লা বাড়ি, মধ্যম কাঁচাড ৪নং ধর্মপুর ইউনিয়ন উপজেলা ফেনী সদর জেলা ফেনীর সহিত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন মহোরে এ ১ লক্ষ টাকা উসুল এ ইসলামি শরা শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
দুর্ভাগ্যের বিষয় বিবাহের কয়েকদিন পর হইতে জামাই আবুল হোসেন কে, স্ত্রী আকলিমা আক্তার সীমা, মাতা তাহেরা বেগম, চাচা পেয়ার আহম্মদ, চাচা রুহুল আমিন ক্বারী, আরো অন্যান্যরা নতুন জামাতা কে বিভিন্ন পন্থায় কখনো শিক্ষা কম, মা বাবা থেকে পৃথক হইতে হবে, শুশুরালয় যেভাবে বলবে সেভাবে চলতে হবে, মোবাইল ফোন দিতে হবে এই ধরনের খোডা যুক্তি দেখিয়ে স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে বাবা বাড়িতে মেয়েটি থেকে যায় এবং বাডাবাডি করলে মিথ্যা মামলা ও নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে পাঁসাবে বলে হুমকি প্দর্শন করে ও মেয়েটি বার বার ছেলেটির কাছে তাহার কাবিনের দেনমোহর টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে,আমাদের ভাবতে বড় অভাক লাগে। তদন্তে জানা যায় মেয়েটি দীর্ঘদিন যাবৎ আলকরা ইউনিয়নের সাউথ আফ্রিকা প্রবাসি একটি ছেলের সাথে পরকিয়া প্রেমে আসক্ত। হত দারিদ্য সহজ সরল স্বামী আবুল হোসেন, বাড়ির সম্মূখে স্কুল সংলগ্ন একজন দোকানদার। মেয়েটি ঐ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, দেখে বুজে, জেনে শুনে, ছেলেটির সাথে গার্ডিয়ান লেভেলে এবং সমাজিকতায় বিবাহ সম্পূর্ন হয় বলে জানান ধর্ম্যপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপ্রতি মোঃ আবু ইউসুপ ভুঞা ও ঐ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ছেলেটি সহজ সরল ভদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ এটি মনে হয় তার অপরাধ। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেেশ সরকারের দেশের চলমান আইনে নারী নির্যাতনের অনেক আইন বিদ্ধমান, সেই সুযোগে কিছু কিছু নারী প্রতি নিয়ত পুরুষকে নির্যাতন করে চলেন। তারই বহিঃ প্রকাশ এই নিরহ ছেলেটির উপর।
(আমরা মানবাধিকার কর্মী যেকোন অভিযোগের সত্য উদঘাটনে বদ্ধ পরিকর, মানব সেবায় এগিয়ে আসুন, মানবাধিকার রক্ষা করুন)
এম.এ দেওয়ানী
এরিয়া ইনচার্জ
ফেনী, নোয়াখালি, লক্ষীপুর।
শনিবার, ১৭ জুন, ২০১৭
দাগনভুঞা থানার ওসির নিকট শিশু আরাফাতের অভিযোগ
ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের নিকট তার প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিকের চেয়ে অভিযোগ দিলো শিশু। দাগনভূঞে উপজেলা গেইট এলাকার কেউ একজন শিশু ইয়াসিন আরাফাত (১০) এর প্রতি অন্যায় আচরণ করে। শিশু হলে সে বুঝতে পারে যে, এটা তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আর স্হানীয় সমাজ প্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাওয়া হলে এর প্রতিকার পেতে সময় লাগতে পারে।
তাই সে সরাসরিদাগনভুঞা থানায় এসে হাজির হয়ে নিজের অভিযোগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ কে অবহিত করে। ওসি ও মনযোগ দিয়ে তার অভিযোগ শুনেন এবং প্রযোজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করেন বলে জানা গেছে। ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ও সময় থানায় শিশুটির পিতাও উপস্হিত ছিলেন । উল্লেখ্য যে ওসি আজাদ ইতি পূর্বে এসআই হিসাবেও দাগনভূঞা থানায় দায়ীত্ব পালনের কারণে যথেষ্ট পরিচিত ও জনপ্রিয়তা রয়েছে সাধারন মানুষের কাছে।
শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০১৭
ফেনীস্থ কোম্পানিগঞ্জ ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিস্তারিত : ফেনীতে বসবাসরত নোয়াখালীর কোম্পানীগন্জ থানার ছাত্র,যুবক ও পেশাজীবিদের সংগঠন ফেনীস্থ কোম্পানিগঞ্জ ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫:৩০ মিনিট থেকে শহরের রেডিক্স হোটেলে এক জাকঝমকভাবে প্রায় ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে উক্ত ইফতার পার্টি অনুষঠিত হয়। দল মত নির্বিশেষে সুন্দর এই আয়োজনের সভাপতিত্ত করেন সংগঠনটির আহবায়ক হাফেজ বাহার। সদস্য সচিব জাকের হোসের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা জনাব এমদাদ হোসেন, সদস্য জনাব দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে।
শনিবার, ১০ জুন, ২০১৭
ধর্ষনের নির্মমতা ও সাধারনের নিরবতা!!! জাকির রুবেল
ব্লেড দিয়ে কেটে যৌনাঙ্গের প্রবেশ পথ বড় করেই রাতভর ধর্ষন করেছে দিনাজপুরের ৫ বছরের শিশু পূজাকে সারারাত ধরে ২ টা জানোয়ার টানা ধর্ষন করে সকালে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে গিয়েছিলো তাকে বিচার হয়নি, বাকিটা ইতিহাস......আশেপাশে রেল লাইন থাকলে হয়তো পূজার বাবাও মেয়েকে নিয়ে সেদিন আত্মহত্যা করতো আচ্ছা...ছোট্ট ফাতেমার কি দোষ ছিলো??
একটি ছোট শিশুকে তুলে নিয়ে গেল, ধর্ষন করলো। বাবা বিচার চাইতে গেল থানায়, ১০০০ টাকার পুলিশ কিনতে চাইলো ফাতেমার হারানো ইজ্জত! আমি মনে করি রমজান আলী তার মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে ভালোই করেছে। কারন যেই পুলিশের কাছে সে বিচার চাইতে গেছে সে পুলিশ-ই তার দুইদিন পর এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতভর ধর্ষন করেছে। এটি দেখলে রমজান আলী হয়তো দুইবার আত্মহত্যা করতো। অবশ্য মেয়েটি এখনো আত্মহত্যা করেনি, ঢামেকে ভর্তি আছে রমজান আলী থানা থেকে গিয়েছিলো ক্ষমতাসীন দলের অফিসে বিচার চাইতে কিন্তু সে হয়তো জানতো না, তার ঠিক ১ সপ্তাহ আগেই মুন্সীগঞ্জে এই ক্ষমতাশীল দলেরই এক মেম্বার VGF কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করেছে ফাতেমার বয়সী আরেকটি বাচ্চাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় এখনো প্রচন্ড যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে শিশুটি।
খবর নিয়ে দেখতে পারেন এটা জানতে পারলে হয়তো রমজান আলী আরো একবার সুইসাইড করতেন অতি দুঃখে রমজান আলী আজ ইতিহাস হবার পথে......।
গত পরশু দিনের কাহিনী তো বলাই হয়নি আপনাদের!! রাজধানীর জুরাইনে ১১ বছরের একটি মেয়েকে স্কুল কক্ষে আটকে রেখে ৮ জন মিলে রাতভর ধর্ষন করেছে মেয়েটির আত্মচিৎকার ৪ দেয়ালের বাইরে আসেনি ভালোই হয়েছে। বাইরে এলে রাষ্ট্র হয়তো তার সেই চিৎকার শুনেও হাততালি-ই দিতো
আপনারা কি ওই কাহিনীও ভুলে গেছেন???
বাসায় মা-মেয়েকে একা পেয়ে কিছু জানোয়ার বাসায় ঢুকে মা'কে বেঁধে রেখে ৭ বছরের ছোট্ট মেয়েটিকে ধর্ষন করেছিলো
নিরুপায় মা বারবার চিৎকার করে বলেছিলো, 'বাবারা, ও ছোট, এক জন একজন করে যাও'
কেউই শুনেনি মায়ের আর্তনাদ
বিচার হয়নি......হয়েছে ইতিহাস.....
কিন্তু এভাবে আর কত?
আর কত পূজা কিংবা ফাতেমারা ইতিহাস হবে?
ফেভিকলের আঠাযুক্ত নরম গদির মানুষেরা মানবতাবাদী, প্রগতিশীল, সভ্য মানুষ। তাই তারা এসব আধুনিক সমাজের সামান্য দুষ্টামি বলে চালিয়ে দেয়।
সুশীলেরাও আজ চুপ। চেতনাধারী অচেতনরা আজ অন্ধ। মানবতাবাদী মুক্তমনারা আজ বোবা।
সমাজ ধংস হোক। নারী লাঞ্চিত হোক। শিশু ধর্ষিত হোক। রেল লাইনে কাটা পড়ে মরুক।
তাতে তথাকথিত সুশীল চেতনাধারী মানবতাবাদীদের যেন কিছুই যায় আসে না!
আর আমরাও ফেসবুকের প্রোফাইলে ২ দিন কালো ছবি ঝুলাই কিংবা 'Justice for অমুক, তমুক' লিখে পোস্ট করি.....ব্যাস, তারপর সব ভুলে যাই!
এভাবে আর কত!!????
রমজান আলী তো ফাতেমাকে নিয়ে মরে গিয়ে বাঁচলো, আমরা বেঁচে আছি কেন?
মানুষ বেঁচে আছে কেন?
এভাবে বেঁচে থাকাকে কি বেঁচে থাকা বলে?
মানুষ কি এভাবে বেঁচে থাকে?
একের পর এক আমাদেরই নাকের ডগার ওপর দিয়ে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে শত শত ছোট্ট পূজা কিংবা ফাতেমারা
আমরা মরি না কেন?
আমাদেরও মরে যাওয়াই উচিত!
এসব প্রতিরোধ/প্রতিকার করতে না পারলে আমাদের মরে যাওয়াই উচিত!
বেঁচে থাকার অন্তত কোনো অধিকার আমাদের নেই।
প্রতিটা দিন, প্রতিটা ক্ষেত্রে হতাশার সংবাদ!
বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখন স্বাভাবিক শব্দটির থেকেও বেশি অস্বাভাবিক হয়ে গেছে৷
অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা একটা মেরুদন্ডহীন জাতিতে আমরা দিন দিন অভূতপূর্ব সাফল্য দেখাচ্ছি!!
এদেশে.....
সাঁওতাল ধর্ষিতা হলে সিনেমা হয়
পাহাড়ি ধর্ষিতা হলে আন্দোলন হয়
সংখ্যালঘু ধর্ষিতা হলে তুফান ওঠে মানবতাকর্মীদের ঠোঁটে
নায়ক-নায়িকা কেলেঙ্কারিতে মিডিয়ায় চলে তোলপাড়
আর ফাতেমারা কচি বয়সে ধর্ষিতা হয়ে ঝরে যায়।
হযরত আলীরা ন্যায় বিচারের অভাবে প্রাণ দেয় রেল লাইনে।
বিচারের বাণী এদেশে যেন নিভৃতে কাঁদে।
ধর্ষক জন্মদাতা এই সমাজের ধ্বংস চাই, পরিবর্তন চাই...........................