ব্লু হোয়াইল নিয়ে কিছু কথা, যেগুলা
না জানলেই বিনোদন মিস!!!!
১. গেইম টা পিসি গেইম।
২. গেইম টা রিয়েল আইপি ছাড়া
লগইন করা যায় না ।
৩. গেইম টা অনলি ডার্ক ওয়েবেবে
পাওয়া যায় (৯০% বাঙ্গালী
ডার্কওয়েব নামই সুনে নাই লোল )।
৪. ডার্ক ওয়েব যেন তেন পাব্লিক
ঢুকতে পারবে না (পারলেও লিংক এর
জন্য গুগলের হাত পা ধরা লাগবে )।
৫. ডার্ক ওয়েবে আপনি কোন স্কিন
সর্ট নিতে পারবেন না ।
৬. ডার্ক ওয়েব এর ওয়েবসাইট হয়
লিংক নয়। সেসব ওয়েবসাইটে
ক্রোম, ফায়ারফক্সের সাহায্যে
ঢুকতে পারবেন না । (মোবাইলের কথা
বাদ ই দিলাম )
৭. গেইম টা বিট কয়েন দিয়ে কিনতে
হয় । ১ বিট কয়েন = ৪০০০+ ডলার ।
৮. এটা কোন Apk or exe ফাইল না,
ব্রাউজ করে খেলতে হয় ।
খেলবেন ভায়া গেইম ? মরার আগে
কিডনি দুইটা বেচার চিন্তাভাবনা
করেন । পোলাপাইন
ফেসবুকে পোস্ট দেয় ১২ লেভেল
পার করেছে , ২৬ লেভেলে আছে।
আমার চুল😜, অরজিনাল কপি হইলে
আপনার আইপি এমন ভাবে ওদের
কাছে ধরা খেত যে আপনি চিন্তায় ই
মরে যেতেন। ফেসবুক পোস্ট দিতেন
না !! প্রথমেই বলেছি যে রিয়েল
আইপি ওদের সার্ভারে হার্ডলি জমা
হয়। বাংলাদেশে রিয়েল আইপি
ব্যাবহারকারী ফ্রীল্যান্সার + PSN
PADE ছাড়া কেও নেই বললেই চলে ।
এছাড়া সবাই অনটাইম আইপি
ইউজার ( বিশ্বাস না হলে ফোনের
আইপি ডাটা অন অ়ফ করে দুই বার
চেক করে দেখুন ) তাই বাংলদেশের
কেও ই নামায় নাই (টাকার পরিমাণ টা
দেখে আসুন) যারা পোস্ট দিয়া
চিল্লাচিল্লি করে প্লে স্টোর বা
গুগল থেকে নামাইয়া ভাব মারে ।
যদি খেলতেই ইচ্ছে হয় তাহলে
বলবো ভাইয়া ডার্ক ওয়েবে যাও,
বিট কয়েন যোগার করো কিডনি
বেচে , প্রোভাইডার থেকে রিয়েল
আইপি কিনে, গেইম টি খেলবা ।
ডেমো খেইলা চিল্লাচিল্লি করে
ফেসবুক গন্ধ করিও না । যারা
পোস্ট দেয় তাদের কে সম্ভার্ধনা
দিন ।হাহা রিয়্যাক্ট দিন। কদিন ধরে
এত পোস্ট দেখতাছি ফেইসবুকে ব্লু
হোয়াইল নিয়া ,, সুইসাইড নিজের
করতে ইচ্ছে করে😷 । আবার খবরে
দেখলাম হলিক্রসের মেয়ে গলায়
দড়ি দিয়েছে ব্লু হোয়াইল খেলে ,
ডাবল লুল গলায় দড়ি দেওয়া টাস্ক
টা কত নম্বরে উপরওয়ালা জানে!😛😛
শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭
ব্লু হ্যোয়েল তো এন্ড্রয়েডে খেলা যায়না, এটি একটি পিসি গেইম,ডলার দিয়ে খেলতে হয় তবে এত টেনশন কেন?
বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৭
নোয়াখালীর প্রবাদ প্রবচন
নোয়াখালীর প্রবাদ প্রবচন
মোহাম্মদ সফিউল হক।|
নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনি|ক অঞ্চল। বর্তমান নোয়াখালী জেলা আগে ফেনী, লক্ষীপুর এবং নোয়াখালী জেলা নিয়ে একটি বৃহত্তর অঞ্চল ছিল, যা এখনও বৃহত্তর নোয়াখালী নামে পরিচিত। নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া । নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম সুধারাম।যা ভাঙ্গা গড়া চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে এই কবিতার মাধ্যমে-“হাট বাজার নদী খাল/নারিকেল সুপারী তাল/ভাঙ্গা গড়ার চোরাবালি/তারই নাম নোয়াখালী।
ভাষার দিক থেকেও নোয়াখালী একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এ ভাষা শুধু নোয়াখালীতেই নয়, বৃহত্তর জেলার আশেপাশের অন্য জেলাগুলিতেও নোয়াখালীর ভাষার প্রচলন আছে। কুমিল্লার লাকসাম, চাঁদপুরের কিছু অঞ্চল, চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই-স্বন্দীপ, ভোলার কিছু অঞ্চলের মানুষ নোয়াখালী ভাষায় কথা বলে থাকেন। এঁরা এ ভাষা ব্যবহারের সময় কখনো কখনো নানান উপমা শ্লোক প্রবাদ এবং নানান কাহিনী ব্যবহার করেন। যার অনেক গুলোর মধ্যেই গভীর ভাব ও দর্শন লুকায়িত থাকে । এ সব ভাব ও দর্শন এ অঞ্চলের মানুষদের নিত্যদিনের অনুসঙ্গ ।
প্রবাদ শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রচলিত কথা প্রবচন, জনশ্রুতি, ডাকের কথা, শ্লোক, উপমা ইত্যাদি।অনেকদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত জনপ্রিয় উক্তি যার মধ্যে সরলভাবে জীবনের কোনো গভীরতর সত্য প্রকাশ পায় সেগুলো প্রবাদ বা প্রবচন নামে অভিহিত হয়ে থাকে । কোনো স্বচ্ছন্দ, আন্তরিক কথাবার্তায় বা বর্ণনায় বক্তব্যকে চমকপ্রদ করে ইঙ্গিতময় করে তোলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার হয়ে থাকে। এ সব প্রবাদ প্রবচনে সাধারণত: সরলতা, সংক্ষিপ্ততা, বাস্তবতা, রসিকতায় নানা ব্যঞ্জনার সৃষ্টি হয়। অতীত কাল থেকেই নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ কথাবার্তায়, আলাপ আলোচনার সময় উপমা শ্লোক ইত্যাদি ব্যবহার করে এসেছেন। সে সব প্রবাদ গুলোর রসাত্বক ব্যঞ্জনার মাঝে লুকায়িত থাকে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বাস্তব ঘটনার নানান চিত্র। এখনও এ সব অঞ্চলে নানা রকম প্রবাদ প্রবচনের প্রচলন রয়েছে। তবে প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এর ব্যবহার বহুলাংশে হ্রাস পাচ্ছে এবং বহু মূল্যবান প্রবাদ প্রবচন হারিয়ে যাচ্ছে।অভিজ্ঞতা, অবহেলা, আপন-পর, আত্নীয়- স্বজন, কৃপণ, কপটতা, লজ্জা নাই, স্বাস্থ্যনীতি, সুদিন-দুর্দিন, প্রেমপ্রীতি, পরকে দিয়া বাহাদুরী, পেটুক, পরিহাস, পরিবেশ, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কিছু প্রবাদ প্রবচন ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরা হল-
১.হেতে হুইসের হোন্দদি কুরাইল চালায়।(হুইস- সুঁই, হোন্দেদি- গোড়াদি, কুরাইল- কুড়াল)
-যেখানে অন্যের কাছে কোন কাজ করা অতি কঠিন মনে হয়, সেখানে অভিজ্ঞ লোক অতি সহজে তা সমাধা করতে পারে।
২.খানার আগ/দরবারের শেষ। ( খানার- খাওয়া, আগ- প্রথমে)
-খেতে হবে আগে, রায় গুনতে হবে পরে।অভিজ্ঞ লোকেরা তা মেনে চলেন।
৩.ছৈয়ালের ভাঙ্গা ঘর/কবিরাজের নিত্য জ্বর। (ছৈয়াল বাঁশ বেড়ার কারিগর)
-ছৈয়াল এবং কবিরাজ সারা জীবন মানুষেরউপকারে কাজ করে, অথচ নিজের অবহেলায় নিজের ঘর এবং স্বার্থের প্রতি খেয়াল রাখেনা।
৪.চাচী,জেডি যতই ভালা মার মত নয়/ চিড়া মুড়ি যতই খাওন ভাতের মত নয়।
-মায়ের মত আর কেউ নাই। অন্যেরা যত মহব্বতই দেখাকনা কেন মায়ের মত হবে না।
৫.হরের হুত/কুত্তার মুত। (হুত- ছেলে সন্তান, মুত- প্রসাব)
-অপরের সন্তানের প্রতি নির্ভর করা যায়না যতটুকু আপন সন্তানের প্রতি করা যায়।
৬.আমনা হায়ন জায়গা/ কুত্তা হালো বাগা।
-নিজের জায়গা নাই। অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। অথচ কুকুর পালার ও শখ।
৭.আগুনে মোম হানি/হেতেনের কাছে হেতি গেলে/ভুলি যায় বকনি। (হানি- পানি, হেতেন- স্বামী হেতি- স্ত্রী, বকনী- গালী দেওয়া)
-স্বামী স্ত্রীর সু-সর্ম্পক থাকলে পরিবারে কোন অশান্তি থাকে না।
৮.আমে ভাতে মিলি গেলে/বারাগা ভেটকাই রইছে। (বারা- আঁটিঁ)
-আপনে আপনে মিল হয়। আর অপর অমিল হয় ।
৯.ভাইয়ে ভাইয়ে বারা /এক বইনে জাল/ আরেক বইনের গাল। (ভারা- ভায়রা, ছোলায়- ঝগড়া করে, গাল- মুখের চেহারা)
-ভাইয়ে ভাইয়ে আত্নীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হলে ও সামান্য ক্ষতি হলে বোনে বোনে ও ঝগড়া হয় এমনকি কঠিন আঘাত হানতে ও দ্বিধাবোধ করে না।
১০.মাইনেষের কুডুম আইলে গেলে /গরুর কুডুম লেইলে হুইসলে।
-আত্নীয়তার মধ্যে পরস্পর যাতায়াত থাকলে যেমনি আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায় তেমনি গরুর সম্পর্ক বুঝা যায় গরু যদি কাউকে জ্বীহবা দিয়ে লেহন করে।
১১.জোয়ান্তী কালে দিলানা কা’ড় /শখ করি হিনতো /বুড়াতি কালে দিছে কা’ড়/ চেঁছাই চেঁছাই আঁইটতো। (কা’ড়-কাপড়(এখানে শাড়ী অর্থে), হিনতো- পরতো, আঁইটতো- হাঁটা, চেঁছাই- গড়াইয়া)
-কেউ কাকেও সময়ের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে জিনিস পত্র না দিয়া অসময়ের দিলে তা নৈরাশ্যতাই প্রকাশ পায়।
১২.মাইচ্ছে টক্কা আঁর বোবা হুতে /বুইজবেন বেহাই আঁডাই নিতে।
একই অর্থে- কাম দিচ্ছে আঁর কানা হুতে /টের হাইবেন বৌ আঁডাই নিতে। ( মাইরছে- জিতছে, আঁর- আমার, হুতে- ছেলে, আঁডাই- হাঁটাই)
-দুই মুর্খ বেহাইর কথোপকথন । একজনের বোবা ছেলে অন্য জনের খোঁড়া মেয়ে। তবু ও তারা বিয়েতে খুশী।
১৩.হড়ি বউ রাজি থাইকলে/ মোর্চা ধানের ও চাইল অয়।( হড়ি- শাশুড়ী, মোর্চা- কাচা, অয়- হয়।)
-পরিবারের মধ্যে শাশুড়ী বউয়ের মধ্যে মিল থাকলে সেই পরিবারে কখনও অশান্তি সৃষ্টি হয়না।
১৪.খুইজলে দেয়না একগা/তুপানে হড়ি গেলে/হিঁড়ে হিঁড়ে দেয়।
-কৃপণ লোকেরা সহজে কাউকে কিছু দিতে চায়না। কিন্তু যখন কোন কারণে কোন জিনিস নষ্ট হতে থেকে তখন উপরি যেচে তা দিতে চায়।
১৫.মা গেছে চাইর বার /হোলা গেছে তিন বার /আর একবার যাই ছা/আমরা কি হেতাগো/ভাতের কাত্তইর্রানি।( যাইছা- খুঁজিয়া চাওয়া, হেতাগো- পাশের বাড়ীর)
-সমাজের কিছু লোক আছে যাদের লজ্জা নাই। সর্বদা অপরের উপর নির্ভরশীল কিন্তু কথায় বড়। কোন কিছু বার বার চাইতে গিয়ে না পেলে ও তারা লজ্জা বোধ করে না।
১৬.বেইন্না মুডি/হারা দিনের খুঁডি। (বইন্না- ভোলবেলা,মুডি- খাওয়া দাওয়া, খুডি- শক্তি)
-ভোর বেলার নাস্তা খাওয়া সারা দিনের শক্তি যোগায়।
১৭.আঁতী যখন খাদে হড়ে/হুজালী ও চাবি ধরে।(আঁতি- হাতি, হুজালী-ক্ষুদ্র মসা মাছি)
-বিপদে পড়লে বিশাল জন্তু হাতীকেও ক্ষুদ্র জীবে অপমান করে।
১৮.কুত্তার লেজ বার বছর/ চুঙ্গার বইললেও যে বেঁয়া হে বেঁয়া।/(কুত্তা কুকুর, চুঙ্গা-বাক্স, বেঁয়া- বাঁকা)
-সমাজে এমন কিছু লোক আছে যাদের মন্দ চরিত্র সহজে পরিবর্তন হয় না।
১৯.কাউয়া চিনে ঘাউয়া হল/হৈকে চিনে মন্ডল। (ঘাউয়া- ক্ষত ওয়ালা,হল- ফল, হৈকে- পাখী,মন্ডল- আমরুজ)
-মন্দ লোকের সর্বদা মন্দের সাথে যুক্ত হয়ে চায়। কাক যেমন ভাল ফল দেখেও ও খায়না।তার দৃষ্টি সব সময় আবর্জনার দিকে
২০.ঠাডা হড়ি বগা মরে/হৈরা কেরামতি ঝাড়ে।(বগা- বক, হৈরা- ফকির, কেরামতি- বাহাদুরী)
-অন্যের করা কাজকে নিজের কাজ বলে প্রচার করা
২১.মোল্লা, মুনসী, কাউয়া/এই তিন জন হর খাউয়া।(খাউয়া- খাওয়া, হর- অপর,)
-যারা শুধু খেতে চায়।
২২.হাইদলে বউ তরাই যায়/চুরি করি চাইল চাবায়। ( হাইদলে- আগ্রহ দেখাইলে, তরাই- অসম্মতি)
– আগ্রহ করে কাউকে কিছু খেতে দিলে সে যদি অনুরোধ প্রত্যাখান করে।
২৩.নাপিত দেইখলে/ নোক্কুনি বাড়ে
-কোন ব্যাপারে সুযোগ পেয়ে বাড়া বাড়ি করা।
২৪.শিন্নি দেখি আগায়/কুত্তা দেখি হিছায়
– সুযোগ দেখলে এগিয়ে চলে, আবার বিপদে দেখিলে পিছপা হয়
২৫.তাল ,তেঁতুল, মান্দার/এই তিনে বাড়ী আঁধার।
– তাল গাছ, তেঁততেঁতুল গাছ এবং মান্দার গাছ বাড়ীর সৌন্দর্য নষ্ট করে।
২৬.পোলা কারবারী মাইওলা দরবারী/গাই গরুর চাষ এই তিনে গিরস্ত সর্বনাশ। ( পোলা- অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে, মাইওলা- নারী)
– অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের কাজ কার বার, মেয়ে লোকের বিচার গাভীর হাল চাষ গৃহস্তের সর্বনাশ।
২৭.তোলা দুধে হোলা বাঁচে না (হোলা- সন্তান, তোলা- মাগনা)
– নিজের ঘরে খাওয়া যোগাড় না করে অন্যের উপর ভরসা করে জীবন বাঁচানো যায় না।
২৮.যুদা ভাত হুদা ভালা /ভাল কাপড়ের তেনা ও ভালা।
– সংসার থেকে পৃথক হইয়া হুদা ভাত খাইলে ও মনে তৃপ্তি পায়।
২৯.যদি থায় নসিবে /হোন্দে আঁডি আসিবে
– অদৃষ্টের উপর নির্ভর করা।
৩০.নাইছতো ন জাইনলে উডান বেঁয়া।
– নিজের দোষ অন্যের উপর চাপানো।
৩১.হাত চূঁড়ি/এক বুড়ি। (চুড়ি- বালিকা, বুড়ি- বৃদ্ধ)
-একজন বৃদ্ধা অভিজ্ঞ নারির জ্ঞানের কাছে সাতটা অল্প বয়ষ্ক মেয়ে হারমানে।
৩২.আজার টেঁয়ার না এক্কই কোবে চেলি। (আজাব-হাজার, না-নৌকা, টেয়ার- টাকার)
-অনভিজ্ঞতা অনেক সময় ভয়াবহ বিপদের সূত্র পাত হয়। অবিবেচনা প্রসূত একটি মাত্র কথায় বা কাজে বিরাট সর্বনাশ হয়। তার সুদূর প্রসারী ফল অনেকের জীবনকে ধ্বংশ করে দেয়।
৩৩.খাইতো জাইনলে মরেনা/বইতো জাইনলে হড়েনা।
-ভোজনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি পেটের অসুখে ভুগতে হয় না। তেমনি নিজের আসন নির্বাচনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও বসতে জানলে পড়ে না।
৩৪.তুই আঁডছ ঠাইলে ঠাইলে/আঁই আঁডি হাতায় হাতায়। (আঁডছ- হাটা, টাইলে- ডাল, আঁই- আমি)
– কারো অভিজ্ঞতার চেয়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশী বুঝাতে গিয়েই এমন কথা বলে।
৩৫.তুই যেই হইরের মাছ/আঁই হেই হইরের উদ্ । ( হইর- পুকুর, উদ্- মাছ খাওয়ার পানীয় জীব)
– কারো সাথে একই রকম অভিজ্ঞতা বুঝাতে
৩৬.একেতো নাচের বুড়ি/আরো হাইছে ঢোলের বাড়ী।]
অতি উৎসাহী লোকেরা কারো সহযোগিতা পেলে দ্বি-গুণ উৎসাহী হয়ে উঠে।
৩৭.সরকারে খায় মসইদে আযা দেয়। ( মসইদে- মসজিদে, আযা- আযান)
-যাদের রুজী রোজগারের চিন্তা নাই। নিজের ইচ্ছায় চলে । বেকার, অকর্মনা জীবন।
৩৮.যে হাতে খায় হেই হাতে আগে। (হাতে-খাওয়ার প্লেট ,পায়খানা করা)
-উপকারীর ক্ষতি করা
৩৯.যারলাই কইরলাম চুরি হেতে কয় চোর /যার গর কইরলাম চুরি হেতেও কয় চোর।
– উপকারীর উপকার স্বীকার না করে উলটা অপবাদ দেয়া।
৪০.যার হরে খায় /তারই ভিডায় কোয়াল চরায়। ( হরে- যার ঘরে লালন পালন হয়, কোয়াল………ঘুঘু পাখী)
– যার খেয়ে পরে মানুষ হয়েছে তারই ভিটা উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করা, অকৃতজ্ঞ।
৪১.আজারিয়া খাইলে রাজার কুঠির ও ভর ধরে না।
– বিনা উপার্জনে কেবল খরচ করতে চাহিলে বড় ধরনের সঞ্চয়ও নিঃশেষ হয়ে যায়।
৪২.মাগি খাইলে কুলায়না/করি খাইলে ফুরায়না। ( মাগি- খুঁজি/ ভিক্ষা)
-উপার্জন করে খেলে সহজে অভাবে পড়েনা।
৪৩.ব্যয় ভোজন নিদ্রা ভয় /যত বাড়ায় ততই অয়।
– বাজে খরচ, অপ্রয়োজনীয় ভোজন, নিদ্রা ও ভয়কে প্রশ্রয় দিলে তা আরো বেড়ে যায়।
৪৪.আঁই ভালা তো আঁর দুইন্নাই ভালা। ( আঁই- আমি, দুইন্নাই-দুনিয়া)
– নিজে ভাল হলে অন্য সকলকে ভাল মনে হয়।
৪৫.নিজের কোচ্চার কুঁড়া/হরা কোচ্চার চিড়া হমান (হমান-সমান, কুঁড়া-তুষ, কোচ্চার- থলি, হরা- অপর জন)
– নিজের যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা।
৪৬.হরের ভিডায় জরিপ আইলে মাপরে মাপ/নিজের ভিডায় জরিপ আইলে বাপরে বাপ। (হরের- অপরের, ভিডায়-ভিটি)
– পরের ক্ষতিতে আনন্দিত ও নিজের ক্ষতিতে দুঃখিত হওয়া|
৪৭.হরের গা’ত হাঁড়া দিলে/তুলার মত লাগে,/নিজের গায়ে হাঁড়া হইড়লে/ কেঁত করি উডে। (হাঁড়া- পায়ের চাপ দেওয়া, কেঁত- ব্যাথ্যা লাগা)
– যে চাপ অন্যের উপর গিয়ে পড়ে তখন আরাম লাগে। অথচ সেই চাপটি নিজের গায়ের উপর পড়া মাত্রই যন্ত্রনা হয়।
৪৮.কারো ঘর হোড়া যায় /কেয় আগুন হোয়ায়। (হোড়া- আগুন লাগা)
– পরের ঘোর বিপদের সময় ও কেউ কেউ আপন সুখ সন্ধানে ব্যস্ত থাকে
৪৯.এক বুঝেনা হরে /আরেক বুঝেনা কাতি মাইয়া জ্বরে। (কাতিমাইয়া- কার্তিক মাস)
– বিপদের সময় অন্যের সাহায্য পাওয়া কঠিন। অপর কখনো নিজের মনোভাব বুঝতে পারেনা।
৫০.মানুষ চিনে রাডে/গরু চিনে জেডে। (চিনে- জানে, রাডে- দুর্ভিক্ষ, অভাব জেডে-জৈষ্ঠ মাস)
– মানুষ যখন অভাবে পড়ে তখন আপন পর বুঝা যায়। তেমনি জৈষ্ঠ মাসে গরু ছাগল পর্যাপ্ত ঘাস খেতে পেয়েও যদি তাজা না হয়, তখন বুঝতে হবে তাকে অসুখে পেয়েছে।
৫১.কাড়া গায়ে লবন ছিঠা।
– কারো বিপদের সময় আরো আঘাত করা
৫২.হরের জমিতে নল হইরলে/নলে হর হর/নিজের জমিতে নল হইরলেনল চাবি ধর।
– মানুষ পরের কাজে তেমন মন দেয়না কিন্তু নিজের বেলায় অতি সজাগ |
৫৩.ঘর হোড়ার ভিত্তে/আলু হোড়া দেয়(হোড়া- আগুন লাগা)
– এক জনের মারাত্বক ক্ষতিতে অপরজন মহাসুখে ফুর্তি করে।
৫৪.কম্পানিকা মাল/দারিয়া মে ঢাল।
– পরের জিনিস পত্র ইচ্ছা পূর্বক অপব্যবহার করা।
৫৫.নিজে খেতে আল গেলে ছ ছ/ হরা খেতে আল গেলে রহ রহ। ( আল- নাঙ্গল, ছ ছ- চাষ করা, হরা- অপর, রহরহ- চাষের গতি কমানো)
যারা শুধু নিজের স্বার্থ দেখে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে।
৫৬.ধানের মধ্যে খামা/ইষ্টের মধ্যে মামা।
– আত্নীয়তার মধ্যে মামা শ্রেষ্ঠ স্থানীয় হিসেবে সমাদৃত।
৫৭.যেইক্কান হোউর হেইক্কান জামাই/নাক কাডা হোউর কান কাডা জামাই। (যেইক্কান – যেমন, হেইক্কান- তেমন কাডা- কাটা,ক্ষত, হোউর- শ্বশুর)
– শ্বশুর ও জামাই মন্দ ব্যবহারে পরস্পর সমান হইলে বলা হয়।
৫৮.হোউর বাইত জামাইর বাসা/একজন মাইরলে তিনজন গোস্বা। (হোউর- শ্বশুর, গোস্বা- রাগ করা)
– ঘর জামাই তার স্ত্রীকে শাসন করলে স্ত্রী, শ্বশুর শাশুড়ী তিন জনই খুব অসন্তুষ্ট হয়।
৫৯.হারা রাইত হাফ মারি/বেইন্না দেয় মইর কাছি। (হারা- সারা, হাফ- সাফ, বেইন্না- ভোর বেলা, মইর কাছি-জমিতে চাষ করার মই টানার মোটা দড়ি)
– রাতে মই টানার মোটা রশিকে সাপ মনে করে সারা রাত লাঠি দিয়ে মেরে পরিশ্রম করার পর সকালে দেখা গেলো তা সাপ নয়। তাই কোনো কাজ না বুঝে অনাহুত শ্রম দেয়াকে বুঝানো হয়েছে।
৬০.হেট লই আঁইটতো হারেনা/ মোটকা লই হুইততো যায়। (হেট- পেট, আঁইটতো- হাঁটা,হুহততো-ঘুমাইতে যাওয়া)
– অসুস্থ্য লোক চলতে ফিরতে পারে না। তবু ও যে কোন প্রকার বোঝা নিয়ে চলতে চায়।
৬১.দাদায় কইছে বাঁইনতো ধান/বাইনতো আছে ওদা ধান।
– বেকুব লোকেরা কখনও সঠিক কাজটা করতে পারেনা এবং ভাল মন্দের তফাৎ বুঝে না।
৬২.মাথায় থোয়না উনের ডরে/মাডিত থোয়না হিমডার ডরে।(থোয়না- রাখেনা, ডরে-ভয়ে। মাডিত- মাটিতে,হিমড়া- পিঁপড়া)
– সন্তানের প্রতি মাতার অতি আদর জনিত উভয় সংকট।
৬৩.কইলে বাপের কিরিয়া/না কইলে মার কিরিয়া। (কিরিয়া-কছম)
-সত্য কথা বললেও ক্ষতি আবার চুপ থাকলেও ক্ষতি, এরূপ উভয় সংকট গল্পে বর্ণিত মাতা পিতার আদরের সন্তানের সংকটটি উল্লেখ করা হয়েছে।একই অর্থ-কইতাম ও হারিনা সইতামও হারিনা।
৬৪.কিবা জ্যাষ্ঠ, কিবা কনিষ্ঠ/যেতে বুঝে হেতেই শ্রেষ্ঠ।
-বয়সের ছোট বড়তে কিছু আসে যায় না। জ্ঞানে বুদ্ধিতে যিনি শ্লেষ্ঠ তাকেই সমাজে শ্রেষ্ঠ বলে সম্মান করা হয়।
৬৫.খাইতো দিলে হাস হাস/আইনতো কইলে সর্বনাশ।
– পরের খেতে খুব আনন্দ পায়। অথচ পরকে দিতে গেলেই ভাবে সর্বনাশ।
৬৬.হরের মাথায় নুন থুই বরই খায়।
– কপট বন্ধুরা সবসময় নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য বন্ধুকেই ব্যবহার করে।
৬৭.চোরেরে কয় চুরি কর/গীরস্তরে কয় হজাগ থাক।
– উভয় পক্ষে সমর্থন কপটতা।
৬৮.চুন খাই মুখ তাইতলে/ডরায় দই দেইকলে। (তাইতলে- পোড়া গেলে, ডরায়- ভয় পায়)
– কোন কিছু থেকে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে সাদৃশ্য অন্য যে কোন কিছু দেখা মাত্র ভীত হয়ে উঠা।
৬৯.হাডা হুতার ঘষা ঘষি/মইরচের দফা শেষ। (হাডা-পাটা, হুতা-পাটার ছোট পাথর)
– বিত্তশালীদের মধ্যে রেষা-রেষি শুরু হলে তাদের অধীন দরিদ্ররা এক এক পক্ষ সমর্থন করতে বাধ্য হয় পরিণামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৭০.যাকরে দিন হাগ লতা খাই/কমু কথা তোর দিনের লাগ হাই। (হাগ লতা- তরিতরকারী, দিনের লাগ- যখন সময় হবে।)
– সমাজের অসহায় লোকেরা বিত্ত শালীদের নানাবিধ প্রভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়ে। তখন তারা সু সময়ের প্রত্যাশায় গরীব হাওলাতে জীবন বাঁচাতে গিয়ে এমন কথা বলে ।
৭১.হাঁফ অই চোগল মারে/ওঝা অই ঝাড়ে। (হাঁফ- সাপ, অই- হইয়া)
– শত্রুতা সাধন করে উপকারীর ভূমিকা পালন করে।
৭২.নিজেরটা হোলআনা /হরেরটা কিছুইনা, (হোল-ষোল, হরের- অপরের)
– সমাজে বহু লোক আছে যারা নিজের জিনিসটার ষোল আনা মূল্য পেতে চায়। সে ক্ষেত্রে অপরের জিনিসটার কোন মূল্যই গ্রায্য করেনা।
৭৩.নিজেখাই নিজে বাঁচুক /হরের হাতে ঠাডা হডুক। ( ঠাডা- বজ্রপাত, হডুক- পডুক)
– তারা শুধু নিজের খাওয়া ও বাঁচার জন্য সর্বদা ব্যস্ত। অপরের ক্ষতিতে তারা দুঃখিত নয় বরং ক্ষতি হলে আরও খুশি।
৭৪.খাইবার সময় বারো ভাই/ হোলা লইবার সময় কেউ নাই।
– স্বার্থপরদের কাজের সময় পাওয়া যায়না কিন্তু খাবার সময় ঠিকই তারা হাজির থাকে।
৭৫.আতে দই পাতে দই/ত’ কয় কই কই। (আতে-হাতে)
– প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও নাই নাই ভাব দূর হয়না। না শোকর।
৭৬.লাভে লোয়ার হোঁজা বয়/অলাভে তুলার হোঁজা ও বয়না। (হোঁজা- আটি, লোয়ার- লৌহ)
– স্বার্থবাজরা প্রাপ্তির আশায় কঠোর পরিশ্রম করেতে রাজী। কিন্তু লাভ না দেখলে সামান্য পরিশ্রম করতে ও রাজী হয়না।
৭৭.দয়া আছে মায়া আছে /গলা ধরি কাঁদিআধা হইসার আটটি কেলা/হরান গেলেও নাদি। (হইসার- পয়সার, হরান- পরান)
– পরের দুঃখে কাঁদতে পারে বটে, কিন্তু নিজের পকেটের একটি কানা কড়িও খরচ করতে বাজি নয়।
৭৮.হাড়ার লোকে ও কয়/ আঁর মনে ও কয়/জামাইর হাতের কই মাছ খাইলেহড়ির হোলা অয়। (হাড়ার- প্রতিবেশী, কয়- বলে, হাতের- খাওয়ার প্লেট, হোলা- পুরুষ সন্তান)
– স্বার্থের জন্য মানুষ কত নীচে ও নিলর্জ্জ হয়। শাশুড়ী জামাইর প্লেটের কইমাছ খাইবার জন্য তাহার উক্তিটি জীবন্ত নজীর।
৭৯.আঁতে তিতা দাঁতে নুন/পেট ভরিও তিন কোন/কানে কচু চোখে তেল তার বাড়ী না বৈদ্য গেল।
– যে প্রতিদিন খালি পেটে কিছু তিতা দ্রব্য আহার করে, লবণ দিয়ে দাঁত মাজে, পেট পুরে আহার করেনা, মাঝে মাঝে কচুর ডগার রস কানে এবং শরিষার তেল চোখে ব্যবহার করে তাকে ডক্তারের কাছে যেতে হয়না।
৮০.উনা ভাতে দুনা বল/বেশী ভাতে রসাতল।
– পুষ্টিকর খাদ্য অপূর্ণ উদরে ভোজন হিতকার। অতি ভোজনে স্বাস্থ্য ভঙ্গ হয়।
৮১. যেতার দাঁত পরিস্কার নাই/ হোতার আঁতও হঁচা।
– নিয়মিত দাঁত না মাজলে, পেটেরও অসুখ হবে।
৮২.বেইন্নার হাওয়া/লাখ টাকার দাওয়া। (বেইন্না- সকাল বেলা)
– সকাল বেলায় ভ্রমণ করা স্বাস্থের জন্য উপকারী।
৮৩.ক্ষেত তুষ্ট মইয়ে/ ভোজন তুষ্ট দইয়ে।
– চাষের পর মই দিলে জমি যেমন পরিপাটি হয়। সেই রূপ খাওয়ার শেষে দই দিলে ভোজনকারীর মন পরিতৃপ্ত হয়।
৮৪. হুরান চাইল ভাতে ভাড়ে/ হুরান ঘিয়ে মাথা ছাড়ে। (হুরান- পুরাতন, চাইলে- চাউল)
– কোন জিনিস পুরান হলে তার দাম বাড়ে।
৮৫.আগে তিতা/ পাচ্ছে মিঠা।
– আহারের প্রথমে তিক্ত ও সর্বশেষ মিষ্টি দ্রব্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম।
৮৬.পেটে ক্ষুধা হুদাও রুচে/বল্লায় কামড় দিলে বুড়ো ও নাচে। (হুদা(খালী)- তরকারী ছাড়া ভাত, রুচে- রুচি)
– বল্লায় হুল ফুটালে বৃদ্ধ যেমন তৎপর হয়ে উঠে, তেমনি ক্ষুধা প্রবল হলে কোনো তরকারী ছাড়া শুধু ভাতই রুচিকর হয়।
৮৭.দিনকালে গাওয়া ব্যাঙ/হাপ ধরি খায়/দিন কালে বান্দী বেটিমন্দ বলি যায়।
– সময়ের কারণে কখনো কখনো অনেক অসম্ভবও সম্ভব হ’তে দেখা যায়।
৮৮.সময় গুণে আপন পর/ঘোড়া গাধা একদর।
– সু সময়ে পরও আপন হয়। আর দুঃসময়ে আপন ও পর হয়। সময়ে গাধার দামে ঘোড়া ও ঘোড়ার দামে গাধা বিক্রয় হয়।
৮৯.হাতী যখন খাদে হড়ে/হুজালীও চাবি ধরে। (হুজালী- ক্ষুদ্র মসা মাছি)
– বিপদে পড়িলে বিশাল জন্তু হাতীকে ও ক্ষুদ্র ভেবে অপমান করে থাকে।
৯০.সময়ে সব হয়/বোন- ভাগনা- ভাই/ঘরের বোও আপন নয় / গাঁইটে যখন হইসা নাই।
– সুসময়ে অনেকেই ভাই প্রভৃতি আত্নীয়রূপে পরিচিত হয়। কিন্তু দুর্দিনে স্ত্রীও আপন হয়না।
৯১.হাঁপে যদি কামড়ায়/হিমড়ায় বিষও উজায়। (হাঁপে- সাপ, হিমড়া-পিঁপড়া)
– ঘটনাচক্রে কেউ কাবু হয়ে পড়লে তার নগণ্য শত্রুরাও প্রতিশোধ গ্রহণে তৎপর হয়ে ওঠে।
৯২.মুচির নজর জুতার নীচে।
– একজন ভদ্র লোক যত দামী পোষাকেই পরুক না কেন মুচি তাকাবে জুতার দিকে। দামী পোষাক তাকে আকৃষ্ট করেনা জুতার ক্ষতি হলে তার নিকট মেরামতের জন্য আসবে এটাই তার প্রত্যাশা।
৯৩.কাউয়া চিনে ঘাউয়া হল (ঘাউয়া- ক্ষত ওয়ালা ফল, হল-ফল)
– মন্দ লোকেরা সর্বদা মন্দের সাথে যুক্ত হতে চায়।কাক যেমন ভাল ফল দেখেও ও খায়না সর্বদা মন্দ ফলের প্রতি আকৃষ্ট থাকে।
৯৪.হাজাইলে হাড়াইলে অয় তিরি/কাম কাইজ কৈল্যে অয় গিরি। (তিরি- স্ত্রী, হাজাইলে- সাজাইলে, গিরি- গৃহস্ত)
– বাস্তব জীবনে সাফল্যের পেছনে থাকে সযত্ন প্রয়াস। শাড়ি চুড়ি পরাতে স্ত্রী লোকের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আবার কাজ কর্ম ঠিকভাবে করতে পারলে সঠিক গৃহস্থ হয়। পরীক্ষিত সত্যের রূপায়ন এই প্রবাদ।
৯৫.অইছে মাগী রইছে বইয়া/দাই মাগী মরে পাগল অইয়া।
– প্রসুতীর চেয়ে দাইয়ের বেশী দুঃখ প্রকাশ।
৯৬.না বিয়ালো মা, না বিয়ালো ঝি/ঝাল খেয়ে মল্লো পাড়া- পড়শী। (বিয়ালো- জন্ম দেওয়া)
– হুড় হাঙ্গামা যথেষ্ট, অথচ কাজের নামে কিছুইনা এমন হুজুগে তৃতীয় পক্ষ বলে।
৯৭.গাছের শক্র লতা/ মাইনষের শক্র কথা
– একজন অন্য জনের প্রতি অন্যায় কথা বলার কারণে ঘোর শক্রুতার সূত্রপাত্র হয়।অতিরিক্ত লতায় যেমন গাছের ক্ষতি হয় তেমনি অতিরিক্ত অসগলগ্ন কথায় শত্রুতা বাড়ে।
৯৮.দুই দিনের বৈরাগী / ভাতেরে কয় অন্ন।
– অতি উৎসাহী ভাব দেখালে বলা হয়।
৯৯.হাছার নাই চাম/ রাধাকৃষ্ণ নাম।
– যার সাথে কোনো সত্যের দেখা নাই, অথচ সত্যবাদিতার ভান করে।
১০০.নিজে হায়না জায়গা/ কুত্তা আনে বাগা।
– যেখানে নিজেরই জায়গা নাই সেখানে অন্যকে এনে বাড়াবাড়ি করা|
১০১.আক্কেলে আক্কেলে টিবা টিবি/ বে-আক্কল অইলে কিলা কিলি।
– বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা পারস্পরিক বিরোধ আকারে ইঙ্গিতে নিজেদের অভিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কিন্তু মূর্খরা বিরোধ মীমাংসা করে রক্তাক্ত সংঘর্ষের মাধ্যমে।
১০২.চা দোয়ানে বই গপ মারন/দুইন্যাইর খবর নিয়সে লঅন। (গপ- গল্প গুজব, নিয়সে- দ্রুত সময়ে)
– এতদ অঞ্চলে অবসর বিনোদনের শ্রেষ্ঠতম স্থান চায়ের দোকান। গ্রামের লোকেরা চায়ের দোকানে বসে নানান খবর জোগাড় করে মনগড়া নিজের ভাষায় সগৌরবে পরিবেশন করে শ্রোতাদের চমক লাগায়।
১০৩.হেতার হাফ গাভীন অইছে। (হাফ- পাপ, গাভীন- পরিপূর্ণ হয়েছে)
– পাপের শেষ প্রতিফলন। পাপের পূর্ণতা।
১০৪.পাপ ও হলায়না/ সাগর ও হুয়না। ( হলায়না-পালিয়ে যায়না, হুয়না-শুকায়না)
– যে কোন সূত্রেই পাপ একদিন প্রকাশিত হবেই।
১০৫. লুটে যত /মাগে তত।
– পাপ পথে ধন অর্জনকারীকে এক সময় ভিক্ষা বৃত্তি করতে হয়।
১০৬.ঠগাইলে ঠগে /লুইটলে মাগে।
– ধোকা দিয়ে সম্পদ অর্জনকারীকে এক সময় ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিতে হয়।
১০৭. হরের লাই খাদ কুঁড়ি / নিজের খাদে নিজে হড়ি।
– পরের ক্ষতি করতে চাইলে নিজেরই ক্ষতি সাধিত হয়।
১০৮. তুই বকছ তকছ আঁই কানে দিছি তুলা/মারছ ধরছ আঁই হিডে বাইনছি কুলা। (বকছ- গালি দেওয়া, আঁই- আমি)
– দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশে বলা হয়
১০৯.খায়না খায়না নারি/খায় সোয়াসের মারি।
– মুখে বলে খেতে পারিনা।আবার খেতে দিলে সোয়াসের চাউলের ভাতেও হয়না।
১১০.ঘোড়া চিনি কানে /দাতা চিনি দানে/মানুষ চিনি হালে/ মাছ চিনি জালে।
– কান দেখে ঘোড়াকে, দান দেখে দাতাকে, বর্তমান অবস্থা দেখে মানুষকে এবং জাল তুললে মাছ চেনা যায়।
১১১.ধনীর চিন্তা ধনধন/নিরানব্বইর ধাক্কা/যোগীর চিন্তা জগন্নাথ ফকিরের চিন্তা মক্কা।
– যে যে পেশায় থাকে বা যে কাজ করে সে সেভাবেই চিন্তা করে।
১১২.কানা গুজা খোঁড়া/তিন শতানের গোড়া।
– বিকলাঙ্গ ব্যাক্তিগন প্রায়ই নিষ্কর্মা। নিষ্কর্মরা দুষ্ট বুদ্ধি সম্পন্ন হয়।
১১৩.ঘরের কথা হরেরে কয়/তারে কয় হর,/চৈত্র মাসে কেঁথা গায় তারে কয় জ্বর।
– প্রকৃত আপন-পর ও অসুস্থতা বুঝাতে।
১১৪.রসিকে রসিক চিনে/ভোমরায় চিনে মধু/ইষ্টিমারের খালাসী চিনে/ ইছা মাছ আর কদু।
– পরস্পর সমচরিত্রের মধ্যেই পরিচয় ঘটে।
১১৫.ছিঁড়া খেঁতায় হুতি থায়/লাখ টেঁয়ার হবন দেয়।
– ব্যবহারের অযোগ্য খাটে শুয়ে আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা
১১৬.চন্দ্র সূর্য অস্ত গেল/জুনি দরে বাতি,/বাঘ হলাই, বিলাই আইলোদইরবো এবার আঁতি।
– যে কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা অকৃতকার্য হয়ছেনে সেই কাজে দুর্বল অনভিজ্ঞ লোক হাত দিলে।
১১৭.আঁর দইয়ের এমন গুণ/এক সের দইয়ে তিন সের নুন।( আঁর- আমি)
– প্রশংসার ছলে নিন্দনীয় বিষয় ঢাকত চাইলে অন্যেরা পরিহাস করে বলে।
১১৮.হক্কুনের দোয়ায় যদি গরু মইরতো/তাইলে কি আর দেশে গরু থাইক তো। অথবা, হক্কুনের দোয়ায় গরু মরেনা (হক্কুন- শকুন)
– স্বার্থ সাধনে ব্যর্থ হয়ে কাকেও অভিশাপ দিলে, অভিশাপ কারীকে পরিহাস করে এমন কথা বলা হয়।
১১৯.মইচ্ছে আগনে/ কাইনতো আইছে হাগুনে। ( আগনে- অগ্রহায়ণ মাসে, কাইনতো- কাঁদা, হাগুন- ফালগুন মাস)
-সময় পার হওয়ার পর কোনো কাজ শুরু করলে।
১২০.হাইদলে বউ তরাই যায়/চুরি করি চাইল চাবায়। ( হাইদলে- আগ্রহ দেখাইলে,তরাই-অসম্মতি)
– আগ্রহ করে কাকেও কিছু খেতে দিলে সে যদি তাহ প্রত্যাখ্যান করে তখন পরিহাস করে বলা হয়।
১২১.আইজগার হাতী এক হইসা/আঁই লতাম হাইরতমনো;/কাইলগার হাতী হাজার টেঁয়াআঁই লইতে কারোগোরে জিগ্গাইতামনো। (আইজগার- আজ, হইসা- টাকা পয়সা, হাইরতাম- অপরাগতা, কাইলগার- আগামীকাল, আঁই-আমি, জিগ্গাইতামনো-কাউকে না জানানো)
– অপ্রয়োজনীয় জিনিষ কম দাম হলেও তা অপচয়, প্রয়োজনে অধিক মূল্য দিয়েও তা সংগ্রহ করতে হয়। সামর্থের মধ্যে সঠিক সময়ে সঠিক জিনিস সংগ্রহ করা।
১২২.ছাগলের মুখে নোনা/গরুর মুখে হোনা। (হোনা- স্বর্ণ, নোনা- লবণাক্ত)
– ছাগল কোন গাছের চারা খেলে সে গাছ আরজন্মায়না। কিন্তু গরুতে খেলে সে গাছের পুনরায় পাতা গজায়। তাই প্রবীণ মুরুব্বীরা প্রবাদের মাধ্যমে সু পরামর্শ দেন।
১২৩.না নোয়াইলে কাঁচা বাঁশ/পাকলে করে ঠাঁশ ঠাঁশ।
– ছেলে মেয়েদের চরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময় বাল্যকাল। পরিণত বয়সে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
১২৪.হোয়াইদ্দা গাছের বরই পাইয়া/হৈত্যদিন আইয়ে কোছা লইয়া। (হোইয়াদ্দা- স্বাদ, হৈত্যদিন- প্রতিদিন, কোছা- ঝুড়ি)
– কাকেও একবার কোন প্রকারে সুযোগ দিলে সে তা বারবার পেতে চায়।
১২৫.হাত দিন চোরের/ এক দিন গিরির।
– চোর অবশ্যই এক দিন ধরা পড়বেই